in

বাংলা বানানে ‘য-ফলা’ আর ‘আ-কারের’ গল্প

আ-কার যেন একটা দুষ্টু মেয়ে । কখন যে সে য-ফলার পাশে আছে, আর কখন যে সে পালিয়ে যায়, খেয়াল না রাখলেই ভুল । ‘ব্যক্ত’ আর ‘ব্যারাম’ শব্দ দুটি লেখতে বসে দ্বন্দ্ব হয় । ব্য-র পর আ-কার বসবে কি ? না কি বসবে না ? ছোটদের আরও সমস্যা । তাই লেখতে বসে ওরা ‘ব্যক্তি’ কে কখনও কখনও ‘বেক্তি’ লেখে ফেলে । ‘ব্যাকরণ’ লেখতে গিয়ে লেখে ফেলে ‘ব্যকরণ’, যা ভুল ।

ছোটদের শেখাতে গিয়ে বলে দিতে হবে, ব্যাগ, ব্যান্ডেজ, ব্যাডমিনটন, ব্যারোমিটার, ব্যালকনি, ব্যালাড, ব্যারিস্টার, ব্যাকটেরিয়া ব্যাটারি ব্যাঙ্ক, এইসব বিদেশি শব্দ বাংলায় উচ্চারণের সময় যেমন ‘ব্যা’ হয়, লেখার ক্ষেত্রেও ‘ব্যা’ হয় ।

ব্যাকরণ, ব্যাকুল, ব্যাখ্যা, ব্যাপার, ব্যাপৃত, ব্যামো, ব্যাহত শব্দগুলি যে ‘ব্যা’ হবে সেটি মনে রাখার একটি উপায় হল ‘ব্যা’-এর পর ক, খ, প, ম, হ যখন শোনা যাবে, তখনই ‘ব্য+ আকার’=‘ব্যা’ হবে ।

তবে মনে রাখতে হবে ‘য়’, ‘ব্য’-এর পরেও বসে, যেমন : ‘ব্যয়’। আবার ‘ব্য+আ’-এর পরেও বসে । যেমন : ‘ব্যায়াম’। ছোটরা হয়তো বলবে ‘ব্যায়াম/ ব্যাগ উচ্চারণ করছি ‘ব্যা’ লেখছিও ‘ব্যা’। কিন্তু ব্যক্ত, ব্যগ্র, ব্যঙ্গ, ব্যঞ্জক, ব্যতিক্রম, ব্যতীত, ব্যথা, ব্যবধান, ব্যবসা, ব্যবস্থা, ব্যবহার, ব্যয়, ব্যর্থ, ব্যস্ত, এই শব্দগুলি ‘ব্য’(ব্+যফলা) লেখলেও উচ্চারণ করছি ‘ব্যা’। এইখানে সমস্যা ।

এই সমস্যা বাংলায় যারা লেখাপড়া করে তাদের প্রায় সবার । এই ধরনের সমস্যা কম বেশি সব ভাষাতেই নানাভাবে আছে । বাংলা ব্যতিক্রম নয় । তবে ছোট থেকে বারবার বলে, লিখিয়ে আত্মস্থ করিয়ে দিলে ছোটদের মাথায় গেঁথে যাবে । অনুশীলনের মধ্য দিয়ে বারবার লেখলে মাথায় এই শব্দের বানানের ছবি স্পষ্ট করে ধরা পড়বে।

‘ব্য’-র পর যখন যুক্তবর্ণ থাকে, যেমন : ব্যক্ত, ব্যক্তি, ব্যগ্র, ব্যঙ্গ ব্যঞ্জনা ইত্যাদি, তখন আ-কার হয় না । আগেই বলেছি ‘ব্যক্তি’ নিয়ে উচ্চারণ আর বানানে প্রায়ই গোলমাল হয় । লেখা হয় ‘ব্যক্তি’ উচ্চারণ করা হয় ‘ব্যেক্তি’। এটা মনে রাখার সুবিধার জন্য, ছোটদের বলা যেতেই পারে তারাও নিজেরা একেকজন ব্যক্তি । তাদের বড় হতে হবে । হেলে দুলে হাঁটলে চলবে না, সোজা হয়ে পথ চলতে হবে । তাই ‘ব্যক্তি’ শব্দটি লেখতে বসে তার কোনো এ-কারের দরকার নেই ।

মনে রাখতে হবে, বাংলা ভাষায় ‘ব্যে’ দিয়ে কোনো শব্দই নেই।আবার ‘সকালবেলা’, বিকেলবেলা, সন্ধ্যাবেলা’কে উচ্চারণ করি ‘ব্যালা’, কিন্তু লেখতে গেলে লেখতে হবে ‘বেলা’।

য-ফলা আর আকারের গল্প আজ এ পর্যন্তই। পরে আবার সময় করে এই নিয়ে কথা হবে ।

One Ping

  1. Pingback:

Leave a Reply

বিগ ব্যাং ও মানবজাতির মহাজাগতিক সীমানা

শীতে ঠান্ডা পানিতে গোসলের উপকারিতা