যৌবনকাল আল্লাহর মহা নিয়ামত

যেকোনো মানুষের জীবনেই আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামত রাজির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যৌবনকাল তথা যৌবনের শক্তিমত্তা। রাসূলে কারিম সা: যৌবনের এ সময়টিকে নিয়ামত এবং সেই সাথে গণিমত হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তার সঠিক ব্যবহারের জন্য তাকিদ দিয়েছেন। রাসূল সা: একজন সাহাবিকে উপদেশ দিতে গিয়ে বললেন- পাঁচটি বস্তুর পূর্বে পাঁচটি বস্তুকে গণিমত মনে করো

১. তোমার বার্ধক্য আসার পূর্বে যৌবনকে
২. অসুস্থ হওয়ার পূর্বে সুস্থতাকে
৩.অভাব আসার পূর্বে সচ্ছলতাকে
৪. ব্যস্ততার পূর্বে অবসরকে এবং
৫. মৃত্যুর পূর্বে যৌবনকে।

একটি জনপদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জনসমষ্টি হচ্ছে যুব সমাজ। সে জনপদের যুবকরাই জরাগ্রস্ত পৃথিবীর বুকে নব-জীবনের কুসুম ফুটিয়ে থাকে। একটি রুগ্ণ, ক্লান্ত, জীর্ণ, আশাহত ও বিপন্ন মানবতার মুক্তির জন্য দুর্বার, ক্লান্তিহীন, উদ্যম, অসীম সাহস, অফুরন্ত প্রাণচাঞ্চল্য ও অটল সাধনার প্রতীক হয়ে এগিয়ে আসতে হয় যুব সমাজকে। অন্যথায় মুক্তি অসম্ভব।

কিন্তু যুব সমাজ নিজেই যদি হয় রুগ্ণ, ক্লান্ত, জীর্ণ, তথা আশাহত তাহলে মুক্তিপাগল জনগোষ্ঠীর মুক্তির আর কোনো উপায়ই অবশিষ্ট থাকে না।

আমরা নিশ্চয়ই ঐশীর নামটি ভুলে যাইনি। ঐশী আমাদের বিপন্ন/রুগ্ণ তরুণ সমাজের একটি প্রতীক। যে কিনা অঢেল সম্পদের মধ্য বিলাসী জীবনযাপন করেও সামান্য চাওয়াকে পূরণ না করায় বন্ধুদের সাথে নিয়ে নিজের বাবা ও মাকে অবলীলায় খুন করল। ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া এ তরুণী ছিল ইয়াবা আসক্ত। যার বাবা ছিলেন একজন পুলিশ অফিসার।

তরুণদের এ ধরনের নৈতিক অবক্ষয় আমাদের জন্য অশনি সঙ্কেত। এখনই সচেতন না হলে ভবিষ্যতে আমাদের জন্য আরো বড় বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।

অবক্ষয় শব্দের ইংরেজি আভিধানিক প্রকাশ Decadence বা Depreciation শব্দে। বাংলায় যাকে বলে ক্ষয়প্রাপ্তি বা ক্ষতি। জীবনকে সুন্দর ও কল্যাণের পথে সাজাতে মানবজীবনে যেসব গুণ থাকা প্রয়োজন, যা তখন লোপ পায় বা নষ্ট হয়ে যায় তখনই জীবনের অবক্ষয় নেমে আসে। Youth and Development গ্রন্থে বলা হয়েছে অর্থাৎ যুব সমাজের অবক্ষয় এর মূল কারণ হলো পরিবেশগত প্রতিফলন, প্রযুক্তির কুপ্রভাব, রাষ্ট্রীয় ঔদাসীন্য এবং সর্বোপরি পারিবারিক অযতœ বা অবহেলা।

নিম্নে যুব সমাজের অবক্ষয় এর কিছু প্রধান কারণ ও প্রতিকার বিষয়ে আলোকপাত করা হলো-
সাংস্কৃতিক আগ্রাসন : মানুষের ভেতরকার অনুশীলিত কৃষ্টির বাহ্যিক পরিশীলিত রূপকে সংস্কৃতি বলা হয়। তাওহিদ, রেসালত ও আখেরাতের প্রতি বিশ্বাসের আলোকে শার’ঈ নির্দেশনায় গড়ে উঠলে সেটাই প্রকৃত অর্থে সংস্কৃতি। এর বাহিরে যা কিছু আছে সবই নষ্ট ও অপসংস্কৃতি। বর্তমানে যুব সমাজের মধ্যে নষ্ট সংস্কৃতির প্রভাব সুস্পষ্ট। যা তাদের নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

স্যাটেলাইট, ইন্টারনেট, ফেসবুক প্রভৃতি প্রচারমাধ্যমের দ্বারা যুব সমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পশ্চিমা জগৎ মুসলিম জাতিকে ধ্বংস করার মানসে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে অশ্লিলতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। যার দ্বারা যৌন সুড়সুড়ি বর্ধক অশ্লীল দৃশ্য, নগ্ন-অর্ধনগ্ন নারীর বাহারি ছবি যুবক-যুবতীদের মধ্যে ভয়াবহ যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। এজন্য মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ জাতিসঙ্ঘের ভাষণ প্রদানকালে বলেছিলেন, ‘পশ্চিমা জগৎ ইন্টারনেটের মাধ্যমে অশ্লীল ও মারদাঙ্গা ছবি গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এটি কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন এবং মাদক চোরাচালানের চেয়ে কম বিপজ্জনক নয়।

মাদকাসক্তি : ইংরেজিতে বলা হয়, Alcohol is the most important cause of broken bones and of broken homes. অর্থাৎ মাদক এমন এক বস্তু যা হাড় ভাঙে এবং ঘরও ভাঙে।

বর্তমান বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে মাদক দ্রব্য। যা প্রতিনিয়ত ধ্বংস করে দিচ্ছে আমাদের তরুণ-তরুণীদের জীবন। ধসিয়ে দিচ্ছে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তিমূল। সেই সাথে মাদক ব্যবসা বর্তমান বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হওয়ায় চোরাকারবারিরা এ ব্যবসায় বেশি ঝুঁকে পড়েছে। তাছাড়া ভৌগোলিক অবস্থান ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে আমাদের এ দেশটি হয়ে উঠছে মাদক পাচারের আন্তর্জাতিক রুট। অধিকন্তু আমাদের পার্শ্ববর্তী বন্ধু রাষ্ট্র সূক্ষ্ম পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ দেশের উঠতি বয়সের তরুণদের ধ্বংস করার নিমিত্তে বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষে অনেক হেরোইন ও ফেনসিডিল কারখানা স্থাপন করেছে এবং সেখানকার উৎপাদিত সব মাদকদ্রব্য এ দেশে পাচার করেছে উভয় দেশের চোরাকারবারিদের মাধ্যমে। এ সব নেশাকর দ্রব্য প্রতিনিয়ত এ দেশের যুব সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

অর্থনৈতিক : নৈতিক মূল্যবোধের ঘাটতির কারণে এবং দুনিয়াবি চাকচিক্যতার মোহে প্রতিযোগিতার কারণে লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ মানুষের মধ্যে বেড়েই চলেছে। স্বার্থপরতা এবং সার্থান্বেষিতার মধ্যে মানুষ হাবুডুবু খাচ্ছে। একাই পাইব, একাই খাইব মনমানসিকতা দিন দিন চাঙ্গা হচ্ছে। ফলে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হচ্ছে। অর্থনৈতিক এহেন সব বিপর্যয়ের কারণে যুব সমাজ নানাভাবে প্রভাবিত হয়ে অবক্ষয়ের দিকে দ্রুত ধাবমান হচ্ছে।

বেকারত্ব : এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, আমাদের দেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ বেকার। যার প্রায় শতভাগই যুবক। যাদের বয়স ২০ থেকে ৩৫ এর ভেতরে। কর্মসংস্থানের অভাবে দৈনন্দিন চাহিদা মেটানোর জন্য তারা অর্থনৈতিক সঙ্কটের মুখোমুখি হয়। ফলে তাদের মধ্যে তৈরি হয় বেকারত্বের ক্ষোভ। যা এক সময় খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, চুরি ইত্যাদি নানাবিধ জঘন্য কাজের দিকে ধাবিত করছে।

ইসলাম জীবন সংশ্লিষ্ট স্বভাবজাত ধর্ম। মানুষের প্রতিটি প্রয়োজন অত্যন্ত সরল ও সাবলীল করে সমাধান দিয়েছে। সেজন্য ইসলাম বেকারত্বকে অভিশাপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। কারণ বেকারত্ব দারিদ্র্য ডেকে আনে আর দারিদ্র্য মানুষকে কুফরির দিকে নিয়ে যায়। ফলে ব্যক্তি বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। সমাজে ছড়িয়ে পড়ে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদকাসক্তি। এ ব্যাপারে ইসলামের সমাধান হলো- ‘অতঃপর নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ করো।’ আয়াতে ফজল (অনুগ্রহ) শব্দটি দিয়ে আল্লাহ তায়ালা মূলত বুঝাতে চাচ্ছেন যে, কর্মক্ষেত্র তৈরি করার জন্য যতগুলো উপকরণ প্রয়োজন তার সবই তিনি আগে থেকেই তৈরি করে বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছেন। মানুষের দায়িত্ব হলো সেগুলোকে গুছিয়ে কাজে লাগানো।

রাজনৈতিক : রাজনৈতিক নেতাদের অনৈতিক ও নিচু মন-মানসিকতার কারণে তারা তাদের প্রভাব বৃদ্ধি ও ক্ষমতার মেয়াদ দীর্ঘ করার স্বার্থে বেকার যুব সমাজকে তাদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। খুন-হত্যা, দখলবাজিসহ প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার মতো ঘৃণ্য সব কাজে। এহেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের প্রয়োজনে গাড়ি-বাড়ি, অর্থ-বিত্ত, আশ্রয়-প্রশ্রয় সবই দেয়া হচ্ছে। আর এসব উপাদান যুব সমাজকে ক্রমেই অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ধর্মীয় অনুশাসনের অনুপস্থিতি : আজকের সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের জন্য প্রধানত দায়ী নৈতিক ও ধর্মীয় অনুশাসনজনিত মূল্যবোধের অভাব। ধর্মীয় অনুশাসনই মানুষকে চরিত্রবান করে তোলে। মানুষের মধ্যে বিবেক সৃষ্টি করে। তার মধ্যে খারাপ পথে যাওয়া ও চলার ব্যাপারে ভয়-ভীতির সৃষ্টি করে। ধর্মীয় অনুশাসন ছাড়া যুব সমাজের অবক্ষয় রোধ সম্ভব নয়।

প্রতিকারসমূহ
তাকওয়া : মানুষ সৃষ্টিগতভাবে সবচেয়ে বেশি দুর্বল তার নফস বা প্রবৃত্তির কাছে। সাধারণত অন্যসব শত্রুর মোকাবেলা করতে গিয়ে সে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে, যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করে, কিন্তু নফস এমন এক শত্রু যার বিরুদ্ধে সে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরিবর্তে তার চাহিদার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে এবং তার চাহিদাকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করে। সে মনে করে নফসের চাহিদা তার নিজের কল্যাণেই। তাই এ চাহিদা পূরণে আত্মনিয়োগ করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুতরাং তাড়না থেকে বাঁচার জন্য তাকওয়া ব্যতীত অন্য কোনো হাতিয়ার কার্যকর নয়। হজরত ইউসুফ আ:-এর স্বীকৃতির কুরআনি বর্ণনায় আমি নিজেকে পবিত্র রাখতে পারি না। কারণ নফস মন্দের প্রতি বেশি বেশি নির্দেশ দিয়ে থাকে। তবে আমার রব যাকে অনুগ্রহ করেন সে ব্যতীত, নিশ্চয়ই আমার রব ক্ষমাকারী অনুগ্রহশীল। (সূরা : ইউছুফ, আয়াত-৫৩)

সূরা নাজিয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন- পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করেছে এবং নিজেকে নফসের খেয়াল খুশি থেকে বিরত রেখেছে তার ঠিকানা হবে জান্নাত। (সূরা : আন নাজিয়াত, আয়াত-৪০)

ইলমে ওহির বিস্তার : তাকওয়া বা আল্লাহভীতি বিষয়টি নির্ভর করে আল্লাহ তায়ালাকে চেনা বা জানার ওপর। আল্লাহকে যে যতটুকু জানবে সে ততটুকু ভয় করবে। তিনি বলেছেন- জেনে নাও যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নাই এবং তারপর তোমার গোনাহের জন্য ক্ষমা চাও। (সূরা: মুহাম্মদ, আয়াত-১৯)

এখানে ক্ষমা চাওয়ার আগে রব সম্পর্কে জানতে বলা হয়েছে। আর আল্লাহ তায়ালাকে জানা ইলমে ওহির মাধ্যমেই সম্ভব। তাই আল্লাহকে চেনা বা জানার জন্য ইলমে ওহির প্রসার ঘটাতে হবে। ইলমে ওহি ব্যতীত আল্লাহকে চেনা বা জানা সম্ভব নয়।
আল্লাহ তায়ালা প্রথম ওহিতে রাসূলে কারীম সা:-কে তাঁর রবকে চেনার জন্য আদেশ করেছিলেন, বলেছিলেন- পড় তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। (সূরা : আলাক, আয়াত-১)

এ প্রসঙ্গে- Stenly Hall বলেছেন- ‘যদি আপনি আপনার সন্তানকে তিনটি R (পড়া, লেখা, অঙ্ক) শিক্ষা দেন এবং চতুর্থ R টি (ধর্ম) যদি বাদ দেন তাহলে আপনি পাবেন ৫ম R (বদমাশ)।

পারিবারিক যত্ন : একজন সন্তানের প্রথম বিদ্যালয় তার পরিবার। যে বিদ্যালয়ে সে তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সর্বাধিক সময় অতিবাহিত করে থাকে। আর সব সন্তানের জন্যই প্রথম শিক্ষক হলো তার মা এবং বাবা। একজন সন্তানের বেড়ে ওঠা নির্ভর করে তার পারিবারিক যতেœর উপরে। চিন্তা-চেতনা মন ও মননের বুনিয়াদ নির্মিত হয় মূলত পরিবার নামক এই প্রতিষ্ঠান থেকেই। তাই খুব সতর্কতার সাথে পরিবারকেই যত্নশীল হতে হয় সন্তানকে সু-সন্তান বা অলাদুন সলেই হিসেবে গড়ে তুলতে। কারণ সভ্যতা, ভদ্রতা, নৈতিকতা, কৃতজ্ঞতাবোধ, অপরের প্রতি শ্রদ্ধা-স্নেহ, পরোপকার, উদার মন-মানসিকতা- এগুলো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে খুব বেশি অর্জন করা যায় না। একাডেমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পড়ালেখা করে শিক্ষিত হওয়া যায়, মেধাবী হলে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে দেশের সীমানা পেরিয়ে ভিন দেশেও নাম কুড়ানো যায়; কিন্তু পারিবারিক শিক্ষা না থাকলে নৈতিকতার অভাবে একসময় সব শিক্ষাই ম্লান হয়ে যায়।

উপসংহার : আজকের সম্ভাবনাময় এসব তরুণ বিপথগামী হওয়ার মাধ্যমে সমাজকে কলুষিত করে ফেলছে এবং সমাজকে অবক্ষয়ের অতল গহিনে নিয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের যুব সমাজ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা ভাবার সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। যুব সমাজের এই অবক্ষয় থেকে বেরিয়ে আসতে এবং সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সামাজিক শাসনের পুনঃ প্রতিষ্ঠা খুবই জরুরি।

তাই সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, মাদকাসক্তির বিষাক্ত ছোবল, অর্থনৈতিক দুর্দশা, রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা আর প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে আমাদের সম্ভাবনাময় তরুণ সমাজ নৈতিক অবক্ষয়ের যে গহিনে যাত্রা শুরু করছে সেখান থেকে ফেরানোর উদ্যোগ আমাদেরই নিতে হবে। এ তরুণ সমাজকে তাকওয়ার গুণে গুণান্বিত করার পাশাপাশি সঠিক শিক্ষা প্রদান ও পারিবারিক যথার্থ যত্ন নেয়ার মাধ্যমে পরিশীলিত, শিক্ষিত, আত্মবিশ্বাসী ও সাহসী যুব সমাজ গড়তে পারলেই একটি কল্যাণময় সমাজ ও ভবিষ্যৎ গঠন করা সম্ভব হবে।

One thought on “যৌবনকাল আল্লাহর মহা নিয়ামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top