ইবনে সিনা নাস্তিক ছিলেন, তার প্রমাণ!

আমাদের অনেকের প্রিয় বিজ্ঞানী ইবনে সিনা। আমাদের অনেকেই তাকে মুসলিম(?) বিজ্ঞানী ভাবে। এমনকি তাকে মুসলিম বিজ্ঞানীদের মধ্যে অন্যতম ভাবে। আসলে আমাদের অনেকেরই অজানা যি তিনি আসলে মুসলিম নয়; তিনি নাস্তিক ছিলেন। তার নাস্তিকতার প্রমাণ গুগলে অনেক পাবেন। আসুন আমরা আজ দেখে নিই তার সম্বন্ধে বড় বড় ইসলাম বিশারদগণ কি বলেনঃ

☆শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ ইবনে সিনা সম্পর্কে বলেন –
“ইবনে সীনা ইলাহ, নবুওয়াত, পরকাল ও শরী’আত সম্পর্কে এমন সব কথাবার্তা বলেছেন যা তার পূর্বের কোনো সালাফ বলেননি। তাঁদের বিবেক ও জ্ঞান সেদিকে যেতেই পারেনি। তিনি এসব শিখেন ইসমাইলিয়্যাহদের মত নামধারী নাস্তিকদের থেকে। তিনি,তার পরিবার ও তার অনুসারীরা মুসলিমদের নিকট নাস্তিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তারা বাহিরে রাফেজীর ভাব নিতেন আর ভিতরে কুফরী লালন করতেন।”

তিনি আরো বলেন –
“ইবনে সীনা নিজেই তার সম্পর্কে বলেছেন, তার পরিবার, তার পিতা ও তার ভাইয়েরা এসব নাস্তিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সে একারণে দর্শন শাস্ত্রে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।”
(মাজমুঊল ফাতওয়া ৯/২৩২-২৩৫)

অন্যত্র বলেন –
“ইবনে সীনা জাহমিয়াদের মত বিদ’আত পন্থী আহলে কালামদের থেকে কিছু গ্রহণ করে ও তার পূর্ববর্তী ইউনানিদের থেকে কিছু নিয়ে সবকে জোড়া দিয়ে এক নতুন দর্শন আবিষ্কার করেন। তিনি ইলমী, আমলী অনেক ক্ষেত্রে নাস্তিক ইসমাইলিয়্যাহদের তরীকায় চলেন। তার সাথে আরো মিশ্রণ করেন সূফীদের কথাবার্তা। তিনি বাস্তবিকভাবে তার ইসমাইলিয়্যাহ কারামুতাহ বাতেনিয়্যাহ ভাইদের মতাদর্শে ছিলেন। তার পরিবার ছিলেন মিসরে অবস্থানকারী হাকেমের অনুসারী ইসমাইলিয়্যাহদের অন্তর্ভুক্ত। তারা তার যুগে ছিলেন। ‘রাসায়েল ইখওয়ানুস সফা’-র অনুসারী ও তাদের মত মুসলিম নয়, ইহুদী নয়, খ্রিষ্টান নয় বরং মুনাফিকদের ধর্ম ছিল তাদের ধর্ম।”
(ঐ ১১/৫৭১)

☆শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ, ইবনে সিনা সম্পর্কে বলেন –
“ইবনে সীনা তেমনটি ছিলেন যেমনটি তিনি তার সম্পর্কে বলেছেন: আমি ও আমার পিতা হাকেমের আন্দোলনের অনুসারী ছিলাম। তিনি কারামুতাহ বাতেনিয়্যাহর অন্তর্গত ছিলেন, যারা বিশ্বাস করেনা (সৃষ্টির) সূচনা, পরকাল, রব, প্রেরিত রাসূল আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসেছেন তা।”
(ইগাসাতুল লাহফান ২/১৯৫)

“তিনি তাকে নাস্তিকদের নেতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।”
(ইগাসাতুল লাহফান ২/১৯৬)

☆জারাহ ওয়া ত্বাদিলের ইমাম শামসুদ্দিন আয যাহাবি রাহিমাহুল্লাহ বলেন –
“তার ‘আশ-শিফা’ সহ অন্যান্য কিতাব এবং এমন কিছু বিষয় রয়েছ যা সহ্য করার মত না। তাকে গাযালী ‘আল-মুনকিয মিলাজ জলাল’ কিতাবে কাফের বলেছেন এবং ফারাবীকেও কাফের বলেছেন।”
(সীয়ারু আ’লামিন নুবালা ১৭/৫৩৫)

ইমাম ইবনু ইমাদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন –
“অধিকাংশ উলামা তাকে কাফের ও নাস্তিক বলেছেন। এমনকি ইমাম গাযালী তার কিতাব ‘আল-মুনকিয মিনাজ জলাল’ কিতাবে বলেছেন, উভয়ের অর্থাৎ ফারাবী ও ইবনে সীনার কুফরীর ব্যাপারে সন্দেহ নেই।”
( সাযারাতুয যাহাব ২/৩৫৩)

ইমাম ইবনুস সালাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন –
“সে (ইবনে সিনা) ছিল মানুষদের মধ্যে একজন শয়তান!”
*ফাতাওয়ায়ে ইবনুস সালাহ – ১/২০৯)

ইমাম ইবনু হাজার আসকালানী রাহিমাহুল্লাহ,
“ইবনে সিনাকে রদ্দ করে যাহাবীর উদ্ধৃতি দিয়ে অভিশাপ দিয়েছেন, যেন আল্লাহ তার প্রতি রাজী না থাকেন, তার রচিত “লিসানুল মীযান” কিতাবে।”

আনওয়ার শাহ আল কাশ্মিরী (রহ) তাকে মুরতাদ যিন্দিক, শিরকের দিকে আহবান কারী বলেছেন।
“ابن سينا الملحد الزنديق القرمطي غدا مدى شرك الردى وشريطة الشيطان”
(রেফারেন্স – ফয়যুল বারী ১/১৬৬)

ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
“গাযালী তার মতবাদকে ‘মাকাসিদুল ফালাসাফাহ’ গ্রন্থে একত্রিত করেছেন। তারপর তিনি ২০টি আলোচনায় ‘তাহাফুতুল ফালাসাফাহ’-তে তার জবাব দিয়েছেন। তিন কারণে তিনি তাকে কাফের বলেছেন।
তা হল: তার মতে বিশ্বজগত সৃষ্টি নয়, শারীরিকভাবে পরকাল হবে না এবং আল্লাহ শাখাগত বিষয় সমূহ জানেন না।
আর অন্যান্য কারণে তিনি তাকে বিদ’আতী বলেছেন। বলা হয়ে থাকে, তিনি নাকি মরার সময় তাওবাহ করেছিলেন। আল্লাহ ভালো জানেন। “
(আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ১২/৪৩)

উস্তাযুল আলেম আল্লামাহ বিন বায রাহিমাহুল্লাহ, ফারাবী এবং ইবনু সীনাকে কঠোরভাবে রদ্দ করেছেন এবং তাদের নামে মুসলিমদের নাম না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন!(ফাওয়ায়েদুল জালিয়্যাহ, যাহরানী পৃষ্ঠা ৩৭)

One thought on “ইবনে সিনা নাস্তিক ছিলেন, তার প্রমাণ!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top