পেট্রোরাসায়নিক বা পেট্রোকেমিক্যাল কি?

Share with

পেট্রোরাসায়নিক বা পেট্রোকেমিক্যাল হচ্ছে পেট্রোল থেকে উৎপন্ন রাসায়নিক পদার্থ। অবশ্য কিছু কিছু পেট্রোরাসায়নিক পদার্থ পেট্রোলের পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানী যেমন কয়লা , প্রাকৃতিক গ্যাস এবং নবায়ন যোগ্য উৎস যেমন শস্যদানা ও আখ থেকে পাওয়া যায়।

পেট্রোরাসায়নিকের পূর্ব পদ পেট্রো হচ্ছে পেট্রোলিয়ামের সংক্ষিপ্ত রূপ। প্রাচীন গ্রিক ভাষায় পেট্রো অর্থ রক বা পাথর এবং অলিয়াম অর্থ তেল বা অয়েল। শব্দগতভাবে পেট্রোরসায়নের ইংরেজী হওয়া উচিত ‘অলিওকেমিক্যাল’। কিন্তু উদ্ভিদ এবং প্রানীজ চর্বি থেকে উৎপন্ন রাসায়নিক সমূহকে অলিওকেমিক্যাল বলা হয়।

পেট্রোরসায়নের প্রধান দুটি শ্রেণী হচ্ছে অলেফিনস (ইথিলিন ও প্রোপিলিন) এবং এরোমেটিকস (বেনজিন, টলুইন ও জাইলিন সমানু)। তেল শোধনাগারে পেট্রোলিয়ালের ‘ফ্লুইড ক্যাটালাইটিক ক্রাকিং’ এর দ্বারা অলেফিন এবং এরোমেটিক পদার্থগুলো তৈর হয়। রাসায়নিক কারখানাগুলোতে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস যেমন ইথেন প্রোপেনের বাষ্পীয় ভাঙন দ্বারা অলেফিনস তৈরী করা হয়। ন্যাপথার ক্যাটালাইটিক পুনর্বিন্যাস দ্বারা এরোমেটিকস উৎপন্ন হয়। দ্রাবক, ডিটারজেন্টস, এডহেসিভসমূহের নির্মাণ একক হিসেবে এরোমেটিকগুলো কাজ করে।পলিমার এবং অলিগোমারের ভিত্তিমূল হচ্ছে অলিফিন। প্লাস্টিক, রেজিন, ফাইবার, লুব্রিক্যান্টস,জেল, ইলাস্টোমার ইত্যাদি তৈরীতে পলিমার ব্যবহৃত হয়।

রাসায়নিক গঠনের উপর ভিত্তি করে প্রাথমিক পেট্রোরাসায়নিক সমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়:

  1. অলেফিনস
  2. এরোমেটিকস
  3. সংশ্লেষন গ্যাস

পেট্রোরাসায়নিক উৎপাদনে ব্যবহৃত হাইড্রোবার্বন উৎসসমূহ:

  • ন্যাপথা পেট্রোলিয়াম শোধনাগারে পাওয়া যায়।
  • বেনজিন, টলুইন এবং জাইলিন রসায়নের ভাষায় সংক্ষেপে বলা হয় BTX পেট্রোলিয়াম শোধন থেকেই পাওয়া যায়।
  • গ্যাস তেল পেট্রোলিয়াম শোধনে পাওয়া যায়।
  • মিথেন, ইথেন, প্রোপেন এবং বিউটেন: প্রাথমিকভাবে প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কারখানাগুলোতে তৈরী হয়।

পেট্রোরাসায়নিক তৈরীতে মিথেন এবং BTX সরাসরি কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ২০০৭ সালে বাষ্পীয় ভাঙন পদ্ধতিতে প্রায় ১১৫মেগাটন ইথিলিন এবং ৭০ মেগাটন প্রোপিলিন উৎপাদন করা হয়। বৃহৎ স্টিম ক্রাকারের ইথিলিন উৎপাদন ক্ষমতা প্রতি বছরে ১-১.৫মেগাটন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top