বাংলা ভাষায় ‘লাইলী-মজনু’ কাব্য কে রচনা করেন?

দৌলত উজির বাহরাম খান রচিত লায়লী-মজনু কাব্য রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান কাব্যধারায় একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে স্থান পেয়েছে। ডঃ মুহম্মদ এনামুল হক এর মতে, ১৫৬০থেকে ১৫৭৫সালের মধ্যে কবি লায়লী-মজনু কাব্য রচনা করেছিলেন। ডঃ আহমদ শরীফ ১৫৪৩ থেকে ১৫৫৩ সালের মধ্যে কাব্যের রচনাকাল মনে করেন। ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে লায়লী-মজনু কাব্যের রচনাকাল ১৬৬৯খ্রিস্টাব্দ।

দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা কবি। তার প্রকৃত নাম ছিল আসা উদ্দীন। জন্ম চট্টগ্রাম জেলার ফতেয়াবাদ কিংবা জাফরাবাদে। তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধীপতির উজির (মন্ত্রী)। তাঁর প্রসিদ্ধ সাহিত্যকর্ম হচ্ছে লায়লী-মজনু এবং ইমাম বিজয়।

সবচেয়ে চমকপ্রদ খবর হল, তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে তেমন শিক্ষা গ্রহণ করেননি। অনেকেই বলে থাকেন তিনি অশিক্ষিত ছিলেন; বাস্তবে তিনি অশিক্ষিত ছিলেন না। তিনি স্বশিক্ষিত ছিলেন।
অল্প বয়সে তাঁর পিতার মৃত্যু হলে চট্টগ্রামের অধীপতি নেজাম শূর তার পিতার উজির পদে তাঁকে অভিসিক্ত করেন।

কবি দৌলত উজির বাহরাম খান রচিত লায়লী-মজনু কাব্য পার্সিয়ান তথা ইরানি কবি জামীর লায়লী-মজনু নামক কাব্যের ভাবানুবাদ। লায়লী-মজনু প্রেমকাহিনী সারা বিশ্ব জুড়ে পরিচিত। এই কাহিনীর মূল উৎস আরবি লোকগাঁথা। কাহিনীটিকে ঐতিহাসিক দিক থেকে সত্য বিবেচনা করা হয়।

আমির পুত্র কয়েস বাল্যকালে বণিক-কন্যা লায়লীর প্রেমে পড়ে মজনু বা পাগল নামে খ্যাত হয়। লায়লীও মজনুর প্রতি গভীর আকর্ষণ অনুভব করে। কিন্তু উভয়ের বিবাহে আসে বাধা। ফলে মজনু পাগল রূপে বনেজঙ্গলে ঘুরে বেড়াতে থাকে। অন্যদিকে লায়লীর অন্যত্র বিয়ে হলেও তার মন থেকে মজনু সরে যায় নি। তাদের দীর্ঘ বিরহ জীবনের অবসান ঘটে করুণ মৃত্যুর মাধ্যমে। এই মর্মস্পর্শী বেদনাময় কাহিনী অবলম্বনেই লায়লী-মজনু কাব্য রচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top
%d bloggers like this: