জিন জাতির পরিচয় ও হাসিলের পদ্ধতি!

ভূমিকাঃ
মহান আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য মাখলুকাত রয়েছে তার মধ্যে মানুষ ও জিন অন্যতম। মহান আল্লাহ তায়ালা এই দুই জাতিকে কেবল তার-ই ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। মানুষ যেমন নারী ও পুরুষ দুই শ্রেণিতে বিভক্ত তেমনি জ্বীন জাতিও দুটি শ্রেনিতে (পুরুষ এবং নারী) বিভক্ত। পুরুষ জিনকে জিন আর নারী জিনদের পরী বলা হয়।


সৃষ্টির উপাদান ও সময়:
মহান আল্লাহ তায়ালা মানব সৃষ্টির দুই হাজার বছর পূর্বে জ্বীন জাতি সৃষ্টি করেন। জ্বীন জাতি আগুনের তৈরি।

শারীরিক গঠন:
স্বাভাবিক ভাবেই জিনের হাত, পা, চক্ষু, নাশিকা ইত্যাদি রয়েছে। তাদের শরীর প্রচুর লোম দ্বারা আচ্ছাদিত। শরীর নরম ও কোমল। মুখের আকৃতি কিছুটা বানরের ন্যায়। তবে পরীর গায়ে কোন লোম থাকে না, তাদের মুখমণ্ডল‌ও বানরের মতো নয়। তারা তারা উভয়েই সুশ্রী কিংবা ভয়ংকর যেকোন রূপ ধারণ করতে সক্ষম।

বৈশিষ্ট্য:
তারা মানুষের মতো খায়, পান করে, বিবাহ করে, সন্তান জন্ম দেয়। তবে তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে– তারা মানুষ, পশুপাখি যেকোনো কিছুর রূপ ধারণ করতে পারে।

সক্রিয়তা:
মানুষ যেমন একে থেকে অপরের থেকে দ্রুতগামী। বুদ্ধিতে কিংবা বিচক্ষণতার দিক দিয়ে সবাই সমান হয় নয়। তেমনি জ্বীন জাতির মধ্যেও একে অপরের থেকে দ্রুতগামী। রকেট যেভাবে দ্রুত বেগে ছুটে যায় তার থেকেও দ্রুত গতিতে চলার ক্ষমতা রাখে একটি জ্বীন। এক কথায় তারা বিদ্যুৎ গতি কিংবা আলোর গতিতে চলতে সক্ষম। একটা ঘটনা বলি তাহলে, বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে।
ঘটনাটি হলো;

হযরত সুলাইমান (আঃ) এর সময়কার একটি ঘটনা। প্রায় সকলেই কমবেশি সুলাইমান আঃ এর সম্পর্কে জানেন, তিনি হলেন আল্লাহর প্রেরিত দূত এবং বাদশাহ। পুরো পৃথিবী শাসন করেছেন তিনি। তিনিই হলেন একমাত্র বাদশা যিনি শুধু মানুষের বাদশাই ছিলেন না বরং তিনি মানুষ ও জ্বীন উভয় জাতির বাদশা ছিলেন। তার সময়ে এক রানী ছিল যিনি আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাসী ছিল না– অনেক লম্বা ঘটনা সংক্ষেপে বলছি।

……. অতঃপর এক সময় রানী বিলকিস হযরত সুলাইমান আঃ এর দরবারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। রানী বিলকিসের ছিল একটি সিংহাসন যার দৈর্ঘ্য ৮০ হাত ও প্রস্থ ৪০ হাত এবং উচ্চতা ছিল ৩০ হাত। সুলাইমান আঃ রানী বিলকিসকে চমকে দেয়ার জন্য তার সিংহাসন নিয়ে আসার জন্য জ্বীনদের ডেকে বললেন, তোমাদের কে কত দ্রুত রানী বিলকিস এর সিংহাসন নিয়ে আসতে পারবে?
একজন জিন বলল,
: আমি পারবো।
হযরত সুলাইমান আঃ জিজ্ঞেস করলেন কতক্ষণ লাগবে? জিন বলল,
: দিনের অর্ধেক।
সুলাইমান আঃ বললেন,
: এতো দেরি হলে চলবেনা।
কে আছ? এর থেকে তারাতাড়ি আনতে পরবে?
আর একজন বলল,
: আমি পারবো, এতো সময় লাগবে না।
: কত সময় লাগবে?
: আপনার চোখের পলক ফেলতে যত সময় লাগবে ঐ মুহুর্তের মধ্যে রানী বিলকিসের সিংহাসন আপনার কাছে আমি হুবুহু নিয়ে আসব।

জিনের খাদ্য:
মহান আল্লাহ তায়ালা জিনের খাদ্য হিসেবে নিকৃষ্ট বস্তু নির্বাচন করেছেন। যেমন: প্রাণীর হাড্ডি, গোবর, কয়লা ইত্যাদি।

বাসস্থান:
মহান আল্লাহ তায়ালা জিন জাতির বাসস্থানের জন্য নিকৃষ্ট স্থান নির্বাচন করেছেন। যেমন: পরিত্যক্ত বাড়ি, উচু ভূমি (পাহাড়, পর্বত) নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন।


আসলেই কি জিন হাসিল করা যায়?
হ্যাঁ, জিন হাসিল করা বা বশ করা সম্ভব। জিন বশে এনে আপনি যে কোন কাজ করাতে পারেন।

জ্বীন হাসিল করা বা বশ করা:
জিন বশে আনতে হলে কিছু আমলের মাধ্যমে তাদের আকৃষ্ট করতে হবে। তার জন্য আপনাকে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। তবে তা কোনো সহজ কাজ নয়, অত্যন্ত কঠিন কাজ। এ সময় আপনি অপবিত্র অবস্থায় থাকতে পারবেন না, সর্বাবস্থায় পবিত্র থাকতে হবে। অপবিত্র হলে, সাথে সথে পবিত্রতা অর্জন করতে হবে।
এর দুটি ধাপ রয়েছে।

প্রথম ধাপ:
এ ধাপে আপনাকে অনেক আমল করতে হবে। যা অনেক কষ্ট সাধ্য। দু-একটির উদাহরণ দিই তাহলে, বিষয়টি স্পষ্ট হবে। যেমন:

১) তিনদিন নিজের হাতে রুটি বানিয়ে জয়তুন তৈল দিয়ে ভক্ষণ করা।
২) এই তিনদিনের মধ্যে বিসমিল্লাহ সহ এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার বার সুরা ইখলাস পাঠ করা।
3) সর্বদা ওজু অবস্থায় থাকা।
৪) রাত জেগে আমল করা।

এরকম আরও অনেক নিয়ম আছে যেই গুলো সম্পূর্ণ ভাবে পালন করতে হয়। এধাপের কিছু কাজ করে আবার ফিরে আসা (কাজ গুলো বন্ধ করে দেয়া) সম্ভব। তবে, দ্বিতীয় ধাপে গেলে সেখান থেকে জীবিত ফিরে আসার সম্ভবনা খুবই কম।

দ্বিতীয় ধাপ:
এ ধাপেও আপনাকে কিছু আমল (কাজ) করতে হবে, যা প্রথম ধাপের থেকে ভয়ংকর। যা অনেক সাহসের ব্যাপার, খুব সাহসী ব্যক্তিরাই কেবলমাত্র সঠিক ভাবে সম্পূর্ণ করতে পারে। এ ধাপ সঠিক ভাবে সম্পূর্ণ করলে জিন আপনার বশে চলে আসবে।

এই ধাপের সবথেকে ভয়ংকর অবস্থা হচ্ছে সেই রাত, যে রাতে ইবাদতের এক পর্যায়ে অনেক জিন আপনার সামনে হাজির হবে। সবচেয়ে ভয়ংকর দৃশ্য তখনই শুরু হয়। জিনেরা অনেক ভয়ংকর রূপ ধারণ করে আসে। ক্ষতি করার চেষ্টা করবে, তবে আদৌ তারা আপনার কোনো ক্ষতি করবে না যদি আপনি সকল ভয়কে জয় করতে পারেন। ভয় পেলেই কিংবা জিনেরা যা করবে তার প্রতিউত্তর দিতে ব্যর্থ হলেই শেষ। এবার এই জিনেরাই আপনার ক্ষতি করবে, মৃত্যু পর্যন্ত আপনাকে কষ্ট দিতে থাকবে। অবশ্য যারা এই সময়ে সাহস হারিয়ে গেছে তাড়াই ব্যার্থ হয়েছে। আর এটা সেই সময় যখন জিন পুরোপুরি আপনার বশে চলে আসবে। কিন্তু তখন‌ই যদি আপনি ভয় পেয়ে থাকেন, তবে যেই জিন আপনার বশে আসত সেই আপনার ক্ষতি করবে। এই সময়ে যারা ব্যার্থ হয়েছে তাদের ব্যাপারে খবর নিলে দেখা যাবে, তিন দিনের বেশি কেউই বাচেনি। আর যেটুকু সময় বেঁচে ছিল তাও খুব‌ই কষ্টের মধ্যদিয়ে গেছে।


মন্তব্য:
যেহেতু এ কাজ অনেক কষ্ট সাধ্য ও সাহসীকতার ব্যাপার, তাই দূর্বল ও কম সাহসী ব্যক্তিরা এসবের মধ্যে না জড়ানোই উত্তম।

2 thoughts on “জিন জাতির পরিচয় ও হাসিলের পদ্ধতি!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top