গর্ভধারণ ছাড়াও ঋতুস্রাব বিলম্বিত হওয়ার কারণ

সময় মতো ঋতুস্রাব না হওয়ার পেছনে আরও অনেক কারণ থাকতে পারে। গর্ভধারণ ছাড়াও বিভিন্ন কারণে ঋতুস্রাবের স্বাভাবিক তালে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্যানুসারে স্বাস্থবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ের ওপর প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানানো হল।

জন্ম নিয়ন্ত্রক বড়ি:

  • অনেকেরই ধারণা জন্ম নিয়ন্ত্রক বড়ি খেলে ঋতুস্রাব আরও নিয়মিত হবে। তবে যেসকল নারী দীর্ঘদিন ধরে এই ওষুধ সেবন করছেন তাদের ঋতুস্রাবের সাধারণ ২৮ দিনের চক্র নাও থাকতে পারে।
  • কিছু জন্ম নিয়ন্ত্রক বড়ি ঋতুস্রাবের মধ্যবর্তী সময়কাল বাড়িয়ে দিতে পারে। ‘আইইউডিএস’ বা এই ধরনের অন্যান্য জন্ম নিয়ন্ত্রক মাধ্যমগুলোও চক্র দীর্ঘায়ীত করতে পারে।‘

পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (পিসিওএস):

  • এই অবস্থার অর্থ হল ডিম্বাশয়ে অতিরিক্ত অপরিণত ডিমকোষের উপস্থিতি। এর প্রভাবে ঋতুস্রাবের পুরো প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হয়। কারণ ডিম্বাণু নিঃসরণ না হলে ঋতুস্রাবও হবে না। ‘পিসিওএস’য়ের অন্যান্য উপসর্গগুলোর মধ্যে আছে অতিমাত্রায় ‘টেস্টোস্টেরন’ হরমোন এবং ওজন বৃদ্ধি।

মানসিক চাপ:

  • হরমোনের মাত্রা এলোমেলো করে দিতে পারে মানসিক চাপ, যা পক্ষান্তরে ঋতুস্রাবের চক্রের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। এই হরমোনের মাত্রায় ভারসাম্যহীনতার কারণে ‘হাইপোথ্যালামাস’ বা মস্তিষ্কের যে অংশ ঋতুস্রাব নিয়ন্ত্রণ করে সে অংশে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।
  • ওজন অতিমাত্রায় কমে যাওয়া কিংবা বেড়ে যাওয়া হতে পারে মানসিক চাপের ফলাফল, যা প্রভাবিত করে ঋতুস্রাবের চক্রকেও।

শরীরের নিম্নাংশের ওজন:

  • খাদ্যাভ্যাসজনীত রোগ যেমন ‘বুলিমিয়া’, ‘অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা’ ইত্যাদির কারণে ঋতুস্রাবের স্বাভাবিক চক্র নষ্ট হতে পারে।
  • আদর্শ ওজনের তুলনায় প্রকৃত ওজন মাত্র ১০ শতাংশ কম হলেই তা শরীরের স্বাভাবিক কাজে পরিবর্তন আনে এবং মাসিকের সময়সীমা পরিবর্তীত হয়।
  • অতিমাত্রায় পরিশ্রম হয় এমন খেলাধুলাও মাসিকের সময়ে পরিবর্তন আনতে পারে।

পেরিমেনোপজ:

  • নারীর রজোনিবৃত্তি হওয়ার গড় বয়স ৫১ বছর। তবে অনেক নারী চল্লিশের কোঠায় পা দেওয়ার পরও অনিয়মিত ঋতুস্রাবের শিকার হন।
  • কারও বয়স যদি ৪৫ বছরের কম হয় এবং এরমধ্যেই ঋতুস্রাব পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় তবে বুঝতে হবে ওই নারী সময়ের আগেই রজোনিবৃত্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। কিংবা ভুগছেন ‘প্রিম্যাচিউর ওভারিয়ান ফেইলিউর’য়ে।

ডায়বেটিস কিংবা থাইরয়েড সমস্যা:

  • দুটোর কারণেই ঋতুস্রাব অনিয়মিত কিংবা একেবারে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যার কারণে ঋতৃস্রাব মৃদু, তীব্র কিংবা অনিয়মিত হতে পারে।
  • আবার একেবারে বন্ধ হয়ে যেতে পারে কয়েকমাস পর্যন্ত। ডাক্তারি ভাষায় একে বলা হয় ‘অ্যামেনোরিয়া’।

One thought on “গর্ভধারণ ছাড়াও ঋতুস্রাব বিলম্বিত হওয়ার কারণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top