আলসেমি দূর করার উপায়

আমরা সবাই কাজে কর্মে কিছুটা ঢিলেমি করি। কিন্তু দীর্ঘায়িত ঢিলেমি বা অলসতা শরীরের জন্য খারাপ। কারণ এটি মানুষকে চাপে ফেলে দেয়। এমনকি চিকিৎসকের কাছে যেতেও বিলম্ব ঘটায়। এখানে আলসেমি বা ঢিলেমি দূর করার কয়েকটি পরামর্শ দেয়া হলো:

মোটিভেশনের জন্য শুধু ইচ্ছাশক্তির ওপর নির্ভর নয়।

  • ক্রীড়া মনোবিদ ইয়ান টেইলরের মতে মানুষ অনেক সময় মনে করে ইচ্ছাশক্তিই সবকিছু, কিন্তু এটি সঠিক নয় বলেই মনে করেন তিনি। ‘ইচ্ছাশক্তি বা আত্মনিয়ন্ত্রণ এক ধরনের মোটিভেশন কিন্তু এটিই সর্বোত্তম নয়,’ তিনি বলেন।
  • তাই শুধু ইচ্ছাশক্তির ওপর নির্ভর না করে কাজের খারাপ দিকটিকে উপেক্ষা করাই শ্রেয় বলে মনে করেন। বরং সেটিকে অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ ভাবতে হবে- যা হবে লক্ষ্য অর্জনের একটি অংশ। গবেষকরা বলছে, লক্ষ্য অর্জনে ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট নয়।

ফেলে রাখা কাজে ইতিবাচক কি আছে দেখুন:

  • ব্যর্থতার ভয় থেকে কাজ ফেলে রাখছেন? শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুসচিয়া সিরোইস বলছেন, আলস্য বা সময় ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা সমস্যা নয়। ‘আপনি যদি উদ্বিগ্ন হন, এ ভেবে যে আপনি ব্যর্থ হবেন তাহলে কাজ ফেলে রাখার যুক্তি তৈরি হবে। এটা একটা বাজে চক্র তৈরি করতে পারে; বিলম্ব করার কারণে কাজ করার সময় কমে যাচ্ছে- যা ব্যর্থতার ঝুঁকি বাড়ায় এবং আপনাকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। এসব এড়াতে কাজের ইতিবাচক দিকটি দেখুন: হয়তো কিছু শিখবেন বা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আনন্দ পাবেন।

অগ্রিম পরিকল্পনা

  • আপনি যদি বুঝতে পারেন যে আলসেমি করার একটি প্রবণতা তৈরি হচ্ছে আপনার মধ্যে, তাহলে মানসিকভাবে একটি কৌশল নিন। কেউ যদি আপনাকে কোনো সপ্তাহান্তে কোনো মিটিংয়ের কথা বলে আপনি বরং বলুন মিটিংটি আজ সন্ধ্যায়ই সেরে ফেলার।
  • আমেরিকান মনোবিদ পিটার গলউইটজার এ কৌশলের ওপর ৯৪টি সমীক্ষা পর্যালোচনা করেন। তার মতে যারা কৌশলটি অনুসরণ করে তারা অন্যদের চেয়ে লক্ষ্য অর্জনে ২/৩গুণ বেশি দৃঢ় থাকে। ব্যর্থতার ভয় থামিয়ে দিচ্ছে?
  • চাপ কমান : সকালে দৌড়ানোর পরিকল্পনা থাকলে আগেই পোশাক ঠিক করে রাখুন। কাজের পরিকল্পনা আগের রাতেই টেবিলে চূড়ান্ত করে রাখুন। তাহলে প্রথমেই আপনি ধারণা পেয়ে যাবেন যে, কি দিয়ে কাজ শুরু করবেন। আর বাধাগুলো, যেমন স্ক্রিনে এলার্ট সরিয়ে ফেলুন। ফোন মিউট করে রাখুন ও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে লগ অফ করুন।

নিজেকে পুরস্কৃত করুন

  • কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাইটলিন য়ুলির নতুন এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে তাৎক্ষণিক পুরস্কার কঠোর পরিশ্রম করতে উদ্বুদ্ধ করে। জটিল কাজ ফেলে রাখা থেকেই আলসেমি শুরু হয়- তাই এর পাল্টা ব্যবস্থা হতে পারে যথাসময়ে কাজের পুরস্কার।
  • পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলছে, জিমে ব্যায়াম করার সময় অডিও বুকস দিলে তা ভালো কাজ করে। অর্থাৎ সেই তাৎক্ষণিক পুরস্কার।
  • সুতরাং দেখুন আপনার ক্ষেত্রে কোনটি কাজ করে। সময় ও কোন পন্থায় কাজ করবেন তাও ভাবতে হবে।

ভবিষ্যতের জন্য অধিকতর বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গিকে উৎসাহিত করুন

  • অনেকেই আমরা বিশ্বাস করি ভবিষ্যতে আমরা অনেক সময় পাব। আমরা ভাবি আমরা সামনে আরও গোছানো, আরও অ্যাকটিভ হবো কিংবা এমন জীবনযাপন করব সেখানে কোনো ভুল ত্রম্নটি থাকবে না। এটা অবশ্যই হবে না। এসব কারণেই অনেক সময় আমরা বুঝি না কাজ শেষ করতে কত সময় লাগবে। এটাকেই বলে পরিকল্পনাগত ভুল।
    • ভাবতে হবে ফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কতটা ব্যবহার করবেন তা নিয়ে।

নিজের প্রতি সদয় হোন

  • হাতে থাকা কাজ ঝুলিয়ে রাখলে অনেক সময় নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষার আগে পড়া ঝালিয়ে নিতে পারেনি তাদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা আলসেমিজনিত কারণে নিজেকে ক্ষমা করে দেয়, তারা পরবর্তী সময়ে ভালো করে।
  • সিরোইস বলছেন, আমরা নিজের ওপর মাঝে মধ্যে যতটা নির্দয় হই, বন্ধুদের ওপরও ততটা হতে পারি না। ‘তাই আমাদের নিজেদের প্রতিও কিছুটা সহমর্মিতা দেখানো উচিত’। যত তাড়াতাড়ি কাজ শেষ হবে তত দ্রুত আনন্দে থাকার চেষ্টা করুন।

নিজের সম্পর্কে কথা বলুন

  • আপনি যে ভাষা ব্যবহার করেন সেটিও একটি ভিন্নতা তৈরি করতে পারে।ইয়ান টেইলর বলছেন, এটা কাজ করে, কারণ এটা আপনার ও আপনার আচরণের মধ্যে একটা সম্পর্ক তৈরি করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top