in , , ,

আঁচিল কি? কেন হয়? ঘরোয়া উপায়ে আঁচিল দূর করার পদ্ধতি

আঁচিল বা মোল আকারে ছোট হয়, এটি বাদামি বা কালো রঙের হতে পারে। ত্বকের যেকোন অংশেই হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই একটি অথবা গ্রুপ আকারে হয়। আঁচিল মূলত এক ধরণের বিনাইন টিউমার ( যে সব টিউমার ক্যানসার সৃষ্টি করে না তাদের বিনাইন টিউমার বলা হয়। অর্থাৎ, এই টিউমার গুলো আশেপাশের টিস্যুকে আক্রমণ করে না বা ছড়ায় না )। আঁচিলকে ননক্যানসারাস বলা হয়। আঁচিল হওয়ার প্রবনতার দিকে নারী-পুরুষ উভয়েই সমানে সমান। সাধারণত শিশুকালে-এর উৎপত্তি, তবে ৪০ বছরের আগে যেকোন সময়েই হতে পারে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে আঁচিল‌-ও পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে। যেমন – রঙের পরিবর্তন, আকৃতির পরিবর্তন, ত্বক থেকে উঁচু হয়ে যাওয়া, লোম জন্মানো ইত্যাদি। কিছু কিছু মোলের পরিবর্তন হয় না, আবার কিছু কিছু মিলিয়ে যেতে পারে ত্বকের সাথে। আবার বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে আঁচিল হওয়ার হারও অনেকাংশে বেড়ে যায় । যেমনঃ মধ্যবয়সের পর আঁচিল হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায় ।

আঁচিল কেন হয়?

  • আমাদের ত্বকের এক ধরনের কোষের নাম মেলানোসাইট। এই কোষগুলো পিগমেন্ট বা রঞ্জক পদার্থের জন্য দায়ী। এ কারণেই আমাদের একেক জনের ত্বকের রং একেক রকম। বেড়ে উঠার সময় এই কোষগুলো ত্বকের সব জায়গায় সমানভাবেই বৃদ্ধি পায়। কিন্তু যখন সমানভাবে না হয়ে কোন একটি নির্দিষ্ট জায়াগায় গুচ্ছাকারে বৃদ্ধি পায়, তখন-ই আঁচিল বা মোলের জন্ম হয়।

কিভাবে বুঝবেন আঁচিল টি ক্যান্সার কিনা?

  • আঁচিল সাধারণত ক্যান্সার নয়। তেমন কোন ক্ষতি-ও করে না, সৌন্দর্যের ব্যাপারটি ছাড়া। তবু কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্যান্সার হতে পারে। যেমন- যদি দেখেন আপনার মোলটি ৩০ বছরের পর আবির্ভূত হয়েছে অথবা মোল-এর রং, আকার-আকৃতি, উচ্চতায় পরিবর্তন হয়েছে, মোল থেকে রক্তপাত হচ্ছে, ব্যথা বা চুলকানি হচ্ছে তাহলে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং পরীক্ষা করান।

আঁচিল বা মোল দূর করার উপায়:

  1. সার্জারির মাধ্যমে
    • চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে মোল বা আচিল বা তিল দূর করা হয়। এটাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
  2. প্রাকৃতিক বা ঘরোয়া পরিবেশে আঁচিল দূর করা

নিম্নে আঁচিল দূর করার কিছু প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া উপায় তুলে ধরা হলো।

কলার খোসা : কলা খেতে ভালবাসেন? খোসাটা ফেলবেন না। কলার খোসার মাধ্যমে আঁচিল দূর করা সম্ভব। খোসার ভিতরের অংশটি বের করে পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে। এখন আঁচিলের উপর লাগিয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়ুন। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কলার খোসায় অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে যা আঁচিল দূর করতে সাহায্য করে।

আম পাতা: আম সবারই খুব পছন্দের ফল। আম স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। তবে শুধু আমই নয়, এর পাতাও বেশ উপকারী। আমপাতায় রয়েছে ভিটামিন, এনজাইম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খনিজ উপাদান। আঁচিল নিরাময়ে আমপাতা খুব কার্যকরী। প্রথমে কিছু কচি আমপাতা পুড়িয়ে কালো করে নিন। এবার এই পোড়া আমপাতাগুলো গুঁড়া করে নিন। তারপর এতে সামান্য পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। এবার এই মিশ্রণটি আঁচিলে লাগান। দেখবেন খুব দ্রুত আঁচিল সেরে যাবে।

অ্যালোভেরা জেল: একটা অ্যালভেরা পাতা কেটে নিন। ভিতরের থকথকে জেলিটা আঁচিলের উপর লাগিয়ে ম্যাসেজ করুন। ত্বকে জেল শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। কয়েকদিন করলেই আঁচিল শুকিয়ে যাবে। নিজে থেকে ঝরেও যাবে। অ্যালোভেরার মধ্যে উপস্থিত ম্যালিক অ্যাসিড এই ম্যাজিক করে দেখাবে।

বেকিং পাউডার : ক্যাস্টর অয়েল এবং বেকিং পাউডারের একটি মিশ্রণ তৈরি করে ফেলুন। মিশ্রণটা আঁচিলের উপর ভাল করে লাগিয়ে বেঁধে রাখুন জায়গাটা। সারা রাত এই ভাবে ফেলে রাখুন। দু-তিন দিন পর থেকেই ফল পেতে শুরু করবেন। ক্রমশ আঁচিল অদৃশ্য হয়ে যাবে।

রসুন : রসুনের মাধ্যমেও আঁচিল সহজে দূর করা যায়। কয়েকটি রসুনের কোয়া কুচি করে পেস্ট তৈরি করে নিন। এই পেস্টটি ত্বকের আঁচিলের উপর লাগিয়ে নিন। কিছুক্ষণ রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তবে বেশিক্ষণ রাখবেন না, ক্ষতি হতে পারে।

পেঁয়াজের রস : আঁচিল দূর করতে পেঁয়াজেরও প্রয়োজন রয়েছে। পেঁয়াজ কুচি করে কেটে নিন। পেঁয়াজ কুচি ও আধা চামচ লবণ মিশিয়ে সারাদিন ঢাকনা দিযে রেখে দিন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এটি আঁচিলের উপর ব্যবহার করুন। পরদিন সকালে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিরাতে এটি ব্যবহার করুন দেখবেন আঁচিল দ্রুত সেরে গেছে।

টি ট্রি অয়েল : টি ট্রি অয়েলে অ্যান্টিসেপটিক উপাদান রয়েছে যা ত্বকের যে কোন ইনফেকশন দ্রুত দূর করতে সাহায্য করে। প্রথমে কিছু তুলো পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এবার টি ট্রি অয়েলে ভিজিয়ে নিয়ে আঁচিলের উপর লাগান। কয়েক ঘন্টা এভাবে রেখে দিন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি দিনে তিনবার ব্যবহার করলে বেশি উপকার পাওয়া যাবে।

অ্যাপল সিডার ভিনেগার: বাড়িতে বসে আঁচিল দূর করতে পারেন। এক টুকরো তুলায় অ্যাপল সিডার ভিনেগার নিয়ে মোলের উপর রেখে ব্যান্ডেজ করে রাখুন। এভাবে প্রায় ১ ঘণ্টার মতো রাখতে হবে। প্রতিদিন ব্যবহার করুন যতদিন না মোল দূর হয়।

সতর্কতা:

  • যেকোন একটি উপায় মেনে এক সপ্তাহ দেখুন। যদি এর মধ্যে মোল অপসারণ না হয়, তবে অন্য পদ্ধতি অবলম্বন করুন। কেননা ব্যক্তিভেদে পদ্ধতি পার্থক্যের সৃষ্টি করে। আপনার সাথে মানিয়ে যায়, এমন পদ্ধতি বাছাই করে নিন।
  • একটু সময় লাগলেও ধৈর্য্য ধরে চর্চা করুন।
  • পটাশিয়াম খুব ভালো কাজ করে। উপরের পদ্ধতিগুলোর অধিকাংশই পটাশিয়াম সমৃদ্ধ।
  • আঁচিল বা মোল কখনই খোঁচাখুঁচি করবেন না। এতে রক্তপাত হবে এবং পুনরায় ওই স্থানে মোল হবে।

শেষ কথা: মোল বা তিল বা আচিল সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে, যদি রিমুভ করতে চান সেক্ষেত্রে ঘরে বসেই করতে পারেন আবার চিকিৎসকের পরামর্শও নিতে পারেন। চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই এক্ষেত্রে ভালো। যদি ক্যান্সার-এর লক্ষণ বলে মনে করেন, তবে শীঘ্রই চিকিৎসকের সাহায্য গ্রহণ করুন।

Leave a Reply

লিভার সিরোসিস কি? কেন হয় এবং প্রতিকার ও চিকিৎসা কি?

করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়া তরুণীর অভিজ্ঞতা! জানুন সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা। নিজে সতর্ক থাকুন এবং অন্যদের সতর্ক থাকতে উদ্বুদ্ধ করুন।