in ,

নামাজ আদায়ের সুফল এবং পরিত্যাগের ভয়াবহতা

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের দ্বিতীয় স্তম্ভ হচ্ছে নামাজ। ‘নামাজ’ ফারসি শব্দ, আরবিতে নামাজকে ‘সালাত’ বলা হয়। এর আভিধানিক অর্থ সম্পর্ক ও সান্নিধ্য। ইসলামের পরিভাষায় এই সালাত আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের মধ্যে যোগাযোগ ও সান্নিধ্যের এমন এক বিশেষ সম্পর্ক গড়ে তোলে, যা অন্য কোনো ইবাদতের বিনিময়ে অর্জন করা সম্ভব নয়। ‘নামাজ মুমিনদের জন্য মিরাজস্বরূপ।’- আল হাদিস।

কালেমা, নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত ইসলামের এ পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে নামাজের গুরুত্ব সর্বাধিক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সালাতের কথা বলেছেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি সালাত ত্যাগ করল সে যেন কুফরী করল।” তিনি আরো বলেন, “বান্দা ও কুফরীর মধ্যে পার্থক্য হলো নামাজ।”

যারা সালাতকে ইসলামের স্তম্ভ হিসেবে স্বীকার করে কিন্তু তা আদায়ের ক্ষেত্রে উপযুক্ত কারণ ছাড়াই অনিয়ম করে, তারা মুসলিম নয়, বরং কাফির। -আল হাদিস।

‘অবশ্য তারা যদি তওবা করে, নামাজ কায়েম করে আর জাকাত আদায় করে, তবে তারা তোমাদের দ্বীনি ভাই।’ (সুরা আত-তাওবাহ : ১১)

এই আয়াতে দ্বীনি ভাই হওয়ার জন্য আল্লাহ তায়ালা কিছু শর্তারোপ করেছেন। এগুলো হচ্ছে, যেন তারা শিরক হতে তওবা করে, সালাত প্রতিষ্ঠা করে এবং জাকাত প্রদান করে।

‘অতঃপর তাদের পরে এলো অপদার্থ পরবর্তীরা। তারা নামাজ নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুবর্তী হলো। সুতরাং তারা অচিরেই পথভ্রষ্টতা প্রত্যক্ষ করবে।’ (সুরা মারইয়াম : ৫৯) এই আয়াত সালাত ত্যাগকারীর কুফরি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে।

ইসলামে নামাজের ধর্মীয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বও অপরিসীম। নামাজ আদায়ের মাধ্যমেই আল্লাহর প্রতি দাসত্ব ও আনুগত্য প্রকাশ পায় এবং স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভ করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) মিরাজে গমন করে বেহেশত, দোজখ, আরশ, কুরসি ইত্যাদি পরিভ্রমণ করে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। অতঃপর সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে উম্মতে মুহাম্মদির জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজস্বরূপ গ্রহণ করে দুনিয়ায় ফিরে সাহাবিদের কাছে আদ্যোপান্ত ঘটনাটি বর্ণনা করলেন। তখন সাহাবায়ে কিরাম আক্ষেপ করে বলেছিলেন যে, ‘আমরাও যদি মিরাজে গমন করতাম!’ এ সময় নবী করিম (সা.) ইরশাদ করলেন, ‘নামাজ মুমিনদের জন্য মিরাজস্বরূপ।’ (ইবনে মাজাহ)

মুসলমানের প্রথম ও প্রধান বিষয় হলো ইমান। আর ইমানের বিশেষ পরিচয় হলো নামাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক বস্তুর একটি চিহ্ন (পরিচয়) আছে এবং ইমানের বিশেষ পরিচয় হলো নামাজ।’ এ নামাজের মাধ্যমে রোজাদার ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে। কেননা নামাজই হলো জান্নাতের চাবিকাঠি।

নামাজ আদায় করলে ধর্ম ঠিক থাকে; আর না করলে ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়। তাই মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘নামাজ হলো দ্বীনের (ধর্মের) স্তম্ভ। যে ব্যক্তি নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, সে দ্বীনকে (ধর্ম) প্রতিষ্ঠিত রাখে। আর যে ব্যক্তি তা পরিহার করে সে দ্বীনকে (ইসলাম) ধ্বংস করে।’

নবী সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়া সালস্নাম বলেন, নিশ্চয়ই মুমিন ও কাফিরের (শিরক) মাঝে পৃথককারী বিষয় হচ্ছে সালাত ত্যাগ করা।’ (সহিহ মুসলিম)

‘আমাদের ও তাদের (কাফিরদের) মাঝে চুক্তি হচ্ছে সালাতের, অতএব, যে ব্যক্তি সালাত ত্যাগ করল সে কুফরি করল।’ (মুসনাদে আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ)

আর এখানে কুফরির অর্থ হলো, এমন কুফরি যা মানুষকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালস্নাম সালাতকে মুমিন ও কাফিরদের মাঝে পার্থক্যকারী বলে ঘোষণা করেছেন।

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহিমাহুলস্নাহ বলেন, সালাত ত্যাগকারী কাফির হয়ে যায়, আর এমন কুফরিতে নিমজ্জিত হয়, যা দ্বীন ইসলামের সীমানা হতে বহিষ্কার করে দেয়। তাকে হত্যা করা হবে যদি সে তওবা করে সালাত প্রতিষ্ঠা না করে।

কিছু ইমাম বলেছেন, সালাত ত্যাগকারী মুরতাদের জানাজা পড়া যাবে না, তাকে মুসলিমদের কবরস্থানে দাফন করা যাবে না, তাকে সালাম দেওয়া যাবে না এবং তার সালামের উত্তরও দেওয়া যাবে না, তাকে সম্পত্তির ভাগ দেওয়া যাবে না।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যে ইমানদাররা ভীত মনে মনোনিবেশ সহকারে নামাজ আদায় করেছে, তারাই (দোজখ থেকে) মুক্তির অধিকারী হয়েছে।’ (সুরা আল-মুমিন : ২১)

এ সম্পর্কে হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নামাজের হিফাজত করে তার জন্য এটা কিয়ামতের দিন জ্যোতি, দলিল ও মুক্তির কারণ হবে।’ (মুসনাদে আহমদ ও বায়হাকি)

মাহে রমজান অফুরন্ত রহমত, বরকত, মাগফিরাত, নাজাত ও ফজিলতপূর্ণ মাস। তাই পবিত্র রমজান মাসে পাঞ্জেগানা নামাজসহ তারাবি, তাহাজ্জুদ, সুন্নত ও নফল নামাজ আদায়ের গুরুত্ব আরও অনেক বেশি। আলস্নাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ৮২ বার প্রত্যক্ষভাবে নামাজ আদায়ের জন্য নির্দেশ প্রদান করে বলেছেন, ‘আর তোমরা নামাজ কায়েম করো বা নামাজকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করো।’ (সুরা আল-মুজজাম্মিল : ২০)

Leave a Reply

কভিড-১৯: ঘরে প্রবেশের পূর্বে যে সকল সতর্কতা অবলম্বন করবেন

ফেইসবুক প্রোফাইল: “Remembering” হতে বাঁচার উপায়।