in , ,

স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর পদ্ধতি

স্মৃতি বলতে মূলত তথ্য ধারণ করে পুনরায় তা ফিরে পাওয়ার প্রক্রিয়াকে বোঝায়। বিজ্ঞানীরা আমাদের স্মৃতিকে প্রধানত দুভাগে ভাগ করেছেনঃ
১. স্বল্পস্থায়ী বা স্বল্প মেয়াদী স্মৃতি,
২. দীর্ঘস্থায়ী বা দীর্ঘ মেয়াদী স্মৃতি।

খুব অল্প সময়ের জন্য আমাদের মস্তিষ্ক যে সব স্মৃতি স্থায়ী থাকে সেগুলো হচ্ছে স্বল্পস্থায়ী স্মৃতি। আর দীর্ঘ সময়ের জন্য আমাদের মস্তিষ্ক যেসব স্মৃতি সংরক্ষিত থাকে সেগুলো হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি। আমরা মূলত দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর কিছু কৌশল নিয়ে আলোচনা করবো।

১. ইখলাস বা আন্তরিকতা:

যে কোনো কাজে সফলতা অর্জনের ভিত্তি হচ্ছে ইখলাস বা আন্তরিকতা। আর ইখলাসের মূল উপাদান হচ্ছে বিশুদ্ধ নিয়ত। উদ্দেশ্য বা নিয়ত হল আমাদের আত্মার মত অথবা বীজের ভিতরে থাকা প্রাণশক্তির মত। বেশীরভাগ বীজই দেখতে মোটামুটি একইরকম, কিন্তু লাগানোর পর বীজগুলো যখন চারাগাছ হয়ে বেড়ে উঠে আর ফল দেওয়া শুরু করে তখন আসল পার্থক্যটা পরিস্কার হয়ে যায় আমাদের কাছে। একইভাবে নিয়ত যত বিশুদ্ধ হবে আমাদের কাজের ফলও তত ভালো হবে।

“উদ্দেশ্য বা নিয়ত হল আমাদের আত্মার মত অথবা বীজের ভিতরে থাকা প্রাণশক্তির মত। বেশীরভাগ বীজই দেখতে মোটামুটি একইরকম, কিন্তু লাগানোর পর বীজগুলো যখন চারাগাছ হয়ে বেড়ে উঠে আর ফল দেওয়া শুরু করে তখন আসল পার্থক্যটা পরিস্কার হয়ে যায় আমাদের কাছে। একইভাবে নিয়ত যত বিশুদ্ধ হবে আমাদের কাজের ফলও তত ভালো হবে।”

২. দু’আ ও যিকর করা:

আমরা সকলেই জানি আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো কাজেই সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়। এজন্য আমাদের উচিত সর্বদা আল্লাহর কাছে দু’আ করা যাতে তিনি আমাদের স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে দেন এবং কল্যাণকর জ্ঞান দান করেন। এক্ষেত্রে আমরা নিন্মোক্ত দু’আটি পাঠ করতে পারি,
“হে আমার পালনকর্তা, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন।” [সূরা ত্বা-হাঃ ১১৪]
তাছাড়া যিকর বা আল্লাহর স্মরণও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন,
“…যখন ভুলে যান, তখন আপনার পালনকর্তাকে স্মরণ করুন…” [সূরা আল-কাহ্‌ফঃ ২৪]
তাই আমাদের উচিত যিকর, তাসবীহ (সুবহান আল্লাহ), তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ), তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাকবীর (আল্লাহু আকবার) – এর মাধ্যমে প্রতিনিয়ত আল্লাহকে স্মরণ করা।

৩. পাপ থেকে দূরে থাকা:

প্রতিনিয়ত পাপ করে যাওয়ার একটি প্রভাব হচ্ছে দুর্বল স্মৃতিশক্তি। পাপের অন্ধকার ও জ্ঞানের আলো কখনো একসাথে থাকতে পারে না। যখন কোনো মানুষ পাপ করে এটা তাকে উদ্বেগ ও দুঃখের দিকে ধাবিত করে। সে তার কৃতকর্মের ব্যাপারে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে তার অনুভূতি ভোঁতা হয়ে যায় এবং জ্ঞান অর্জনের মতো কল্যাণকর ‘আমল থেকে সে দূরে সরে পড়ে। তাই আমাদের উচিত পাপ থেকে দূরে থাকার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা।

৪. মন দিয়ে স্মরণ করুন

কোনও কিছু মনে করার আগে, যা শুনেছেন, দেখেছেন, বলেছেন— তা মনে করার চেষ্টা করুন ভালোভাবে। প্রয়োজনে নিজের সমস্ত ইন্দ্রিয়কে সজাগ করুন। এতে ভুলে যাওয়া জিনিস মনে করতে সুবিধে হবে।

৫. ছোট ছোট তথ্য মনে রাখুন

একসঙ্গে অনেকটা মনে রাখার বদলে ছোট ছোট আকারে তথ্য মনে রাখুন। এতে চট করে ভুলবেন না। মনেও থাকবে সহজে।

প্রতিদিন কমপক্ষে ছয় ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। নির্দিষ্ট সময়ে শুয়ে নির্দিষ্ট সময়ে উঠলে এবং গাঢ় ঘুম হলে শরীরের পাশাপাশি মনও তরতাজা হয়ে যায়। কারণ, ঘুমের সময় প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঙ্গে বিশ্রাম নেয় আমাদের মস্তিষ্কও। এজন্য দেখবেন ঘুম থেকে উঠে সকাল সকাল যেই বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় ওগুলো সহজেই মনে রাখা সম্ভব হয়।

৬. পর্যাপ্ত ঘুম

প্রতিদিন কমপক্ষে ছয় ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। নির্দিষ্ট সময়ে শুয়ে নির্দিষ্ট সময়ে উঠলে এবং গাঢ় ঘুম হলে শরীরের পাশাপাশি মনও তরতাজা হয়ে যায়। কারণ, ঘুমের সময় প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঙ্গে বিশ্রাম নেয় আমাদের মস্তিষ্কও। এজন্য দেখবেন ঘুম থেকে উঠে সকাল সকাল যেই বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় ওগুলো সহজেই মনে রাখা সম্ভব হয়।

৭. কাজের মাঝে বিশ্রাম

টানা কাজ কিন্তু শরীরের সঙ্গে মনকেও ক্লান্ত করে। তখন স্মৃতিশক্তিও দুর্বল হয়। সহজে কিছু মনে পড়তে চায় না। একঘেয়ে লাগে সবকিছু। তাই কাজের ফাঁকে কিছু সময় বিশ্রাম নিন। কথা বলুন সহকর্মীদের সঙ্গে। তারপর আবার কাজে বসুন। মন ভালো থাকবে। মগজাস্ত্র হবে ক্ষুরধার।

আশাকরি নিয়ম গুলো পালন করলে, আপনার দীর্ঘ মেয়াদি স্মৃতি বৃদ্ধি পাবে। ইনশাআল্লাহ।

One Comment

Leave a Reply

Leave a Reply

গিনিপিগ কি?

যৌবনকাল আল্লাহর মহা নিয়ামত